ক্লাসিক রীতির সাহিত্যের স্বরুপ আলোচনা কর।

ক্লাসিক রীতির সাহিত্যের স্বরুপ আলোচনা কর। (রীতিরাত্মা কাব্যস্য)

সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা হলো কাব্য। কিন্তু ‘কাব্য’ কী এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রামায়ণের রচয়িতা আদি কবি বাল্মীকি থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে ভরত, দ-ী, বামন, আনন্দবর্ধন, জগন্নাথ, অভিনব গুপ্ত, বিশ্বনাথ কবিরাজ অন্যতম। এ সব ব্যক্তি সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রে বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এ জন্য তাদেরকে আচার্য বলা হয়। তারা অনেকেই বাংলা কাব্যে রীতির কথা স্বীকার করেছেন বিশেষ করে আচার্য বামন রীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। নিম্নে বিষয়টি আলোচনা করা হলো-

বাংলা কাব্য সম্পর্কে আলংকারিকদের নানা রকম মতামত আমরা দেখতে পাই। রসবাদীরা রসকেই কাব্যের আত্মা বলে অভিমত দিয়েছেন। তাদের মতে কবিতায় রস থাকলেই তা সফল হিসেবে বিবেচিত হয়। কেউ কেউ বলেন, রস ও কাব্যের জগৎ অলৌকিক মায়ার জগৎ। ধ্বনিবাদীদের মতে কাব্যের ভেতরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রীতিবাদীদের মতে রীতি বা স্টাইলই কাব্যের আত্মা। আচার্য বামন সর্ব প্রথম এই ধারণা ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে সৌন্দর্য কাব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অলংকার কাব্যের বাইরের জিনিস। তাই সব অলংকার কাব্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না। যে সব অলংকার কাব্যে সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারে, সেই সব অলংকার কাব্যের জন্য বিশেষ প্রয়োজন।

আচার্য বামন সমালোচনা সাহিত্যে কাব্য বিচারের ক্ষেত্রে কাব্যের গুণের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

কাব্যগুণকে তিনি কাব্য-মাধুর্য বলেছেন। তাঁর মতে, এই গুণই কাব্যের নিত্যদিনের ধর্ম। অন্য সব অলংকার অনিত্য, তার মানে অন্য সব অলংকার সব সময় থাকে না। আবার থাকার প্রয়োজনও নেই। গুণই একমাত্র কাব্য অলংকার যা সব সময় কাব্যে থাকতে হয়। কাব্যের এই মাধুর্য কাব্য রচনার বিশিষ্ট রীতির উপর নির্ভর করে। অলংকার শাস্ত্রের রীতিকে ইংরেজিতে স্টাইল বলা হয়েছে।

কাব্য রচনার বিশেষ ভঙ্গিকে আশ্রয় করেই এই রীতি প্রকাশিত হয়। তাই প্রাচ্য অলংকার বিশেষজ্ঞ আচার্য বামন বলেন-গুণাত্মক পদ (কবিতা) রচনার বিশিষ্ট রীতিই কাব্যের আত্মা। গুণ কাব্যের শোভা বর্ধন করে থাকে। এ জন্য অলংকার শাস্ত্রে গুণকে কাব্যের জনক বলা হয়ে থাকে। আচার্য বামনের মতে-রীতি কাব্যের রীতি কাব্যের অন্তরঙ্গ উপাদানের গুণের দ্বারা পরিশোভিত। রেখা অংকনের মাধ্যমে যেমন একটি ছবি সুন্দরভাবে ফুটে উঠে, তেমনই রীতির দ্বারা বাংলা কাব্য জীবন্ত ও নান্দনিক হয়ে উঠে। বামন সংস্কৃত সাহিত্যে কাব্যের জন্য তিনটি রীতির কথা বলেছেন। এবং এই রীতি কাব্যের অপরিহার্যতার কথা নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করেছেন।

Scroll to Top